ঢাকাসোমবার , 2 নভেম্বর 2026
  1. # লিড নিউজ
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. খুলনা বিভাগ
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম বিভাগ
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দেশজুড়ে
  15. ধর্ম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বড়লেখায় জ্বীন হুজুর পরিচয়ে প্রতারণা, ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেফতার- ৪

মো: তাজুদুর রহমান:
নভেম্বর 2, 2026 2:21 অপরাহ্ন
Link Copied!

7

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে আত্মসাৎকৃত সব স্বর্ণালংকার।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫) এবং জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)।

রোববার ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের হেফাজত থেকে ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাতনামা এক নারী বড়লেখা উপজেলার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করে জানান, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে কথিত জিন্নী হুজুর সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয়। ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী বসতঘরের পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর ফিরে গিয়ে দেখেন, স্বর্ণালংকারগুলো নেই।

পরে ওই নারীকে ফোন করলে জানানো হয়, জিন্নী মুমিন স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে তাঁর ছেলে সুস্থ হবে এবং স্বর্ণালংকার ফেরত পাবেন। এর কিছুদিন পর গত ১৬ অক্টোবর একই নারী পুনরায় ফোন করে আরও স্বর্ণালংকার একই স্থানে রাখতে বলেন। এবার স্বর্ণালংকার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় ভুক্তভোগী দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। কিন্তু এবারও ফিরে গিয়ে সেগুলো পাননি।

এভাবে দুই দফায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭শ ১২ টাকা।

পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস, এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাস ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকা থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী উপজেলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তাদের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ১টি সিতাহার, ২ জোড়া ঝুমকা ও ১টি আংটি। ভুক্তভোগী নিজে উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত চারজনকে সোমবার বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।