খিলক্ষেতের সড়কের মাঝখানে নির্মিত অস্বাভাবিক প্রশস্ত আইল্যান্ড এখন এলাকাবাসীর জন্য স্বস্তির বদলে চরম দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন রিকশা ও যানবাহনের দীর্ঘ জটে কার্যত অচল হয়ে পড়ছে সড়ক, ভোগান্তির চাপে পিষ্ট হচ্ছেন পথচারী, অফিসগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রশ্ন হলো, মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য সড়ক, নাকি মানুষের চলাচল সংকুচিত করে দুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য এই আইল্যান্ড? যে অবকাঠামো জনজীবনে স্বস্তি দেওয়ার কথা, সেটিই যদি প্রতিদিন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেই পরিকল্পনার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, ফুটপাতের হকারদের ব্যবসার সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখা এবং ফুটপাতকেন্দ্রিক কথিত চাঁদাবাজির স্বার্থ রক্ষার সঙ্গে এই অস্বাভাবিক প্রশস্ত আইল্যান্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব; কিন্তু সড়কের নকশা, যান চলাচলের বাস্তবতা ও জনদুর্ভোগের চিত্র খতিয়ে না দেখে নীরব থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। জনস্বার্থকে পাশ কাটিয়ে কোনো গোষ্ঠীর সুবিধা রক্ষার অভিযোগ যদি ওঠে, তবে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। সড়ক কি সাধারণ মানুষের, নাকি প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহলের সুবিধা নিশ্চিত করার হাতিয়ার? এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, প্রতিদিন মানুষের ভোগান্তি দৃশ্যমান হওয়া সত্ত্বেও কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ কোথায়—তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন, সড়কসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বশীল ভূমিকা কি কেবল বক্তব্য আর প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন—খিলক্ষেতবাসী নিশ্চয়ই এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা,জনদুর্ভোগ নিরসনে ভূমিকা এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।কাউন্সিলর নির্বাচনে জনগণ যেন শুধু প্রতিশ্রুতির মোহে নয়,প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা ও সমস্যা সমাধানের বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। খিলক্ষেতবাসী করুণা নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার চায়; আশ্বাস নয়, কার্যকর সমাধান চায়। জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস নয়—মানুষের চলাচলের অধিকার সবার আগে, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়!
