ঢাকাMonday , 29 June 2026
  1. # লিড নিউজ
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. দেশজুড়ে
  12. ধর্ম
  13. ফিচার
  14. বিনোদন
  15. ভ্রমণ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুয়াডাঙ্গায় মায়ের স্বপ্ন পূরণে বিসিএস ক্যাডার রিজভী

Link Copied!

27

জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার যুবক নাদিউজ্জামান খান রিজভী। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে মা, বাবা ও একমাত্র ভাইকে হারিয়ে একসময় পুরোপুরি একা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত শোক তাঁকে থামাতে পারেনি। মায়ের আজীবনের স্বপ্নকে নিজের লক্ষ্য বানিয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের পর ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

শুধু নিজের সাফল্য নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রিজভী। তিনি আলমডাঙ্গা নিমগ্ন পাঠাগারের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পাঠাগারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার ‘আনন্দধাম’ এলাকার বাসিন্দা নাদিউজ্জামান খান রিজভী। তাঁর পিতা মরহুম মোহাম্মদ আলী খান। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। শুরু থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়া। সেই কারণেই বিসিএসের আবেদনপত্রে শিক্ষা ক্যাডার ছাড়া অন্য কোনো ক্যাডার পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করেননি।

তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে গভীর বেদনার ইতিহাস। ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর মা। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে হারান একমাত্র ভাইকে। এরপর ছয় মাসের মাথায় মারা যান বাবাও। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারের সবচেয়ে আপন তিনজন মানুষকে হারিয়ে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েন রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘হঠাৎ করেই আমি এই বিশাল পৃথিবীতে একদম একা হয়ে গেলাম। চারপাশটা যেন স্থবির হয়ে গিয়েছিল। নিজেকে সামলে নিতেই কেটে গেল বেশ কয়েকটি বছর। কিন্তু মায়ের সেই শেষ স্বপ্নটা আমাকে ঘুমাতে দেয়নি। শূন্য ঘরে মায়ের স্মৃতিগুলোই আমাকে তাগিদ দিত লড়ার জন্য।’

মায়ের সেই স্বপ্নই হয়ে ওঠে তাঁর এগিয়ে চলার শক্তি। নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। লক্ষ্য ছিল ৪৭তম সাধারণ বিসিএস এবং ৪৯তম স্পেশাল বিসিএস। ৪৯তম স্পেশাল বিসিএসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না এলেও হতাশ হননি। পুরো মনোযোগ দেন ৪৭তম বিসিএসে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য হাতে ছিল দুই মাসেরও কম সময়। তবে ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি এবং ইংরেজি সাহিত্য পাঠের অভ্যাস তাঁকে লিখিত পরীক্ষায় এগিয়ে রাখে। এরপর জীবনের প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিয়ে সফলভাবে শেষ করেন ভাইভাও।

অবশেষে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন রিজভী। দীর্ঘ সংগ্রাম, শোক আর একাকীত্বের পথ পেরিয়ে এ সাফল্য তাঁর কাছে শুধু একটি চাকরি নয়, মায়ের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণেরও পরম তৃপ্তি।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে আমার আনন্দের দিনে পাশে হাত রাখার মতো মা নেই, পিঠ চাপড়ে দেওয়ার মতো বাবা বা ভাই নেই। পরিজনহীন এই আনন্দধামে আমি আজ বড্ড একা। কিন্তু আমি জানি, ওপর থেকে আমার মা আজ দেখছেন এবং হাসছেন। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। আল্লাহ আমার ডাক কবুল করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।’

আগামী দিনে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে চান নাদিউজ্জামান খান রিজভী। প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে স্বপ্নের পথে অবিচল থাকার তাঁর এই সংগ্রামের গল্প আজ চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।