আলমডাঙ্গা থানাধীন চিলাভালকী গ্রামের বাদিনী মোছাঃ আমেনা খাতুন (৫৬) এর নাতি মোঃ রাফিজ মিয়া (১৫) কে গত ০৫ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ৭টা ৩০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা আসামীরা ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিয়ে কৌশলে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখে। একই তারিখ রাত অনুমান ১১টায় আসামীরা বাদিনীর মোবাইল ফোনে কল করে ভিকটিমের কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলিয়ে ১২,০০,০০০/- (বারো লক্ষ) টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে আসামীরা একই নম্বর হতে একাধিকবার কল করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং-১১, তাং-১০/০৬/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০২৫) এর ৭/৮/৩০ রুজু হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (CCIC)-এ কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর আশিকুর রহমান, সাব-ইন্সপেক্টর সৌমিত্র সাহা, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর মোঃ রজিবুল হক, এএসআই আরিফুল ইসলাম এবং আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোঃ হোসেন আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানাধীন নলিয়া গ্রাম রেলস্টেশন জামালপুর বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখ ভোর ৪টা৩০ মিনিটে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণপূর্বক হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামী মোঃ লাল্টু মিয়া (৪১), পিতা- মোঃ শুকুর আলী, মাতা- মোছাঃ ছপুরা খাতুন, সাং- শিবপুর, থানা ও জেলা- চুয়াডাঙ্গাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিমের পিতা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসে অবস্থান করায় তাকে অপহরণ করলে প্রবাসী পিতার নিকট হতে মোটা অংকের টাকা আদায় করা সম্ভব হবে বলে আসামীরা পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক আসামীরা গত ০৫ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭:৩০ ঘটিকায় ভিকটিমকে ফোনে ডেকে মোটরসাইকেলযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন কুতুবপুরে জনৈক মজিদের জমি সংলগ্ন অর্জুন খালের নিকট নিয়ে যায়। সেখানে ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে মারধর করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিকট কল করে নির্যাতনের চিৎকার শুনিয়ে ১২ (বার লক্ষ) লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে একই তারিখ রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় গ্রেফতারকৃত আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে ভিকটিমকে হত্যা করে এবং লাশ অর্জুন খালে ফেলে রাখে। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরেও একাধিকবার আসামী লাল্টু মোবাইল ফোনে মুক্তিপণের টাকা দাবি অব্যাহত রাখে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর দেখানো মতে ভিকটিমকে হত্যার ঘটনাস্থল হতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী ইতোপূর্বে আরোও দুইটি হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামী।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে জনৈক মজিদের জমির পুকুর হতে ভিকটিম রাফিজ মিয়ার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।
বিচারার্থে গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামী বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষে অভিযান অব্যহত আছে।
