ঢাকাThursday , 10 September 2026
  1. # লিড নিউজ
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. দেশজুড়ে
  12. ধর্ম
  13. ফিচার
  14. বিনোদন
  15. ভ্রমণ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কক্সবাজারের বনে মেঘলা চিতার সন্ধান, মিলেছে আরও নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী

Link Copied!

24

কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনে প্রথমবারের মতো মেঘলা চিতার উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। ইনানী জাতীয় উদ্যানে ক্যামেরা ট্র্যাপে বিরল এই বন্য প্রাণীর পাঁচটি ছবি ধরা পড়েছে। একই গবেষণায় আরও ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে।

 

এ মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১৩ মাস ধরে কক্সবাজারের একটি সংরক্ষিত বনে পরিচালিত হয়।

 

গবেষণায় ইনানী জাতীয় উদ্যানে ১৫টি ক্যামেরা দিয়ে ৩২টি স্থান পর্যবেক্ষণ করা হয়। তিনটি ক্যামেরায় মেঘলা চিতার পাঁচটি ছবি ধরা পড়ে। পাশাপাশি পায়ের ছাপ ও মল পরীক্ষার মাধ্যমেও প্রাণীটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

বন অধিদপ্তরের বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পরিচালক বিপুল কৃষ্ণ দাস জানান, ইনানী জাতীয় উদ্যানের আয়তন ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর। যেসব এলাকায় জলাশয় ও পানির প্রবাহ রয়েছে, সেসব স্থানে বন্য প্রাণীর উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

বাংলাদেশে মেঘলা চিতাকে মহাবিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইইউসিএন। বৈশ্বিকভাবেও প্রাণীটি ঝুঁকিপূর্ণ। পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বনে এর দেখা মিললেও কক্সবাজারের কোনো সংরক্ষিত বনে আগে ক্যামেরা ট্র্যাপে মেঘলা চিতার ছবি ধরা পড়ার তথ্য ছিল না।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইনানী জাতীয় উদ্যানের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা মেঘলা চিতার বসবাসের উপযোগী, যা উদ্যানটির মোট আয়তনের প্রায় ৪৪ শতাংশ। ঘন ঝোপঝাড় ও গাছপালাযুক্ত এলাকায় এদের উপস্থিতি বেশি। এ ধরনের বন পাওয়া গেছে প্রায় ২ হাজার ৮৮৭ হেক্টর এলাকায়।

 

মেঘলা চিতার পাশাপাশি গবেষণায় এশিয়ান হাতি, মুখপোড়া হনুমান, উল্টোলেজি বানর, লজ্জাবতী বানর, শজারু, রেসাস মেকাক, শিয়াল, গন্ধগোকুল, ছোট ও বড় খাটাশ, বনবিড়াল, চিতা বিড়াল, বন্য শূকর, কাঁকড়াভুক বেজি, গোরখোদক, ইরাবতী কাঠবিড়ালি, গেছো চুছো, মায়া হরিণ, দাঁতাল ফেরেট বেজার, ছোট রক্তপেকো বাদুড়, বাদামি কাঠবিড়ালি ও লাল উড়ন্ত কাঠবিড়ালির উপস্থিতিও শনাক্ত হয়েছে।

 

বন্য প্রাণী গবেষক রেজা খান বলেন, মেঘলা চিতা অত্যন্ত বিরল প্রাণী। ইনানীর বনে এর উপস্থিতি প্রমাণ করে, সেখানে এখনো কিছু এলাকায় সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র টিকে আছে। প্রাণীটির আবাসস্থল চিহ্নিত করে বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কাঠ আহরণ বন্ধ এবং বনের ভেতরে অবৈধ বসতি থাকলে তা সরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

তিনি বলেন, একসময় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার বনাঞ্চল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সময়ের সঙ্গে বন খণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় বন্য প্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়েছে। মেঘলা চিতা মূলত গাছেই চলাফেরা করে এবং গাছ থেকে গাছে লাফিয়ে শিকার করে। ফলে ইনানীর বনাঞ্চলে এর আবাসস্থল সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

গবেষকদের মতে, ইনানী জাতীয় উদ্যানের চারপাশে মানুষের বসতি, রোহিঙ্গা শিবিরের সম্প্রসারণ, জ্বালানির জন্য গাছ কাটা এবং কৃষিজমির অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্য প্রাণীর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের আনাগোনা ও কৃষিকাজ বেশি এমন এলাকায় প্রাণীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্যও তুলনামূলক কম।

 

বন্য প্রাণী সংরক্ষণে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও বনভূমি দখল বন্ধ, পাহাড়ি ছড়া ও খাল সুরক্ষা এবং উদ্যানের চারপাশে বাফার জোন তৈরির সুপারিশ করেছেন গবেষকরা। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

গবেষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কক্সবাজারের উপকূলীয় বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য এবং মেঘলা চিতাসহ বিরল স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে রাঙামাটি থেকে পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি মেঘলা চিতা বর্তমানে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে রাখা হয়েছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।