চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা আইসিটি অফিসার ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মাহমুদের (৩৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মানবাধিকার সংস্থা ‘মানবতা ফাউন্ডেশন’। আজ ২৫ জুন (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১২ টায় চুয়াডাঙ্গায় ভিকটিমের পিতা-মাতার উপস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট খন্দকার অহিদূল আলম (মনি খন্দকার)।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১৯ জুন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে জীবননগর আশতলা পাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে আইসিটি অফিসার মাহমুদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে জীবননগর থানা পুলিশ। এই ঘটনায় ওই দিনই নিহতের পিতা ও মৎস্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’র একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতি, স্ত্রীর বড় ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, শাশুড়ি মোছাঃ জাহানারা খাতুন এবং স্ত্রীর দুলাভাই নাহিদ হোসেন। পরে গত ২৪ জুন আইনি সহায়তার জন্য ভিকটিমের পরিবার মানবতা ফাউন্ডেশনের দ্বারস্থ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলা হয়, গত ১৯ জুন মাহমুদুর রহমানের লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ নিহতের ফ্ল্যাটটি নিজেদের হেফাজতে নেয়নি এবং ঘটনার বিষয়ে নিহতের পিতা-মাতাকে সময়মতো অবহিত করেনি। ফলে আসামিরা ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও জীবননগর থানা পুলিশ তদন্তে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মামলাটি (জিআর ১৪২/২৬) জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করেছেন।
পরিবারের অভিযোগ ও সন্দেহের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাহমুদুর রহমান ও তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ইতি তার স্বামীকে পিতা-মাতার সাথে দেখা করতে দিতেন না এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে ও নিজেদের বাসায় আসতে দিতেন না। ইতির কথা শুনে তার বড় ভাই, মা ও দুলাভাই প্রায়ই ওই বাসায় এসে মাহমুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। ঘটনার আগের দিন (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১০টা এবং ঘটনার দিন (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকেও আসামিরা মাহমুদের সাথে চরম ঝগড়াঝাটি করেন এবং একপর্যায়ে তাকে ‘গলায় দড়ি দিয়ে মরতে পারিস না’ বলে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেন। এর কিছুক্ষণ পরই পাশের রুম থেকে মাহমুদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। চার বছর বয়সী এক সন্তানের জনক মাহমুদের স্ত্রী ইতি বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। প্রতিবেশী, সহকর্মী ও বন্ধুদের বরাত দিয়ে নিহতের পরিবার দাবি করেছে, ইতির বর্তমান গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে মাহমুদের মনে তীব্র সন্দেহ ছিল এবং জীবদ্দশায় মাহমুদ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে এই পরকীয়া ও সন্দেহের কথা প্রকাশ করে গেছেন। পরিবারের আশঙ্কা, স্ত্রী ও অন্যান্য আসামিরা কোনো কথিত পরপুরুষের সহায়তায় মাহমুদকে নির্যাতন করে হত্যা করার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
সংবাদ সম্মেলনে মানবতা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশের প্রতি সকল সন্দেহভাজন বিষয় আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ ও সঠিক চার্জশিট দাখিলের আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে, এই নির্মম ঘটনার সঠিক রহস্য উন্মোচন ও ভিকটিমের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশে থাকার অনুরোধ জানানো হয়।
