জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মোট আটটি অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন হাসানুল হক ইনু।
এদিন, দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।
রায়ে নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের তিন নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের ছয় নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ষড়যন্ত্রের সাত নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক, দুই, চার, পাঁচ ও আট নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ৩০ বছরের সাজা হলেও সব সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাকে ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে। এর আগে গত ২২ জুন রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র। এছাড়া রয়েছে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্ট। এ মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে।
