1. admin@crimenews24.net : crimene :
  2. zpsakib@gmail.com : sakib@2021 :
শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ছিনতাইকৃত মালামাল সহ তিন জন গ্রেফতার নড়াইলে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, অধিক মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ গ্যাসের দাম বাড়লে বাড়বে ভোগান্তি : মোমিন মেহেদী মৌলভীবাজারে ডিবি পুলিশের  অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ শ্রীমঙ্গলে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে জরিমানা আদায়  র‌্যাব-৬ এর অভিযানে যশোর থেকে  চোরাইকৃত ইজিবাইকসহ চোর চক্রের ২ জন  সদস্য গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গা থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত ১ জন পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ রাজশাহী মহানগরীতে প্রাইভেট কারে ৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার মৌলভীবাজারের ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামানের দাফন সম্পন্ন, বিভিন্ন মহলের শোক মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানা পরিদর্শনে সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি

নড়াইলে ইট ভাটা আইন শুধু কাগজে কলমে!

কৃপা বিশ্বাস নড়াইল
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৬৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নড়াইলে ফসলি জমি দখল করে গড়ে উঠছে অসংখ্য ইটভাটা। এসব ভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে পরিবেশ। আইন অমান্য করে দিনের পর দিন ইটভাটার সংখ্যা বাড়তে থাকলেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকায়! ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ জেলায় মোট ইটভাটার সংখ্যা ৪২টি। তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে এখানে ৭০টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৫৩টিতেই ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ব্যারেল চিমনি। সরেজমিন দেখা গেছে, লোকালয়ে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃষিজমির মাটি। ফলে একদিকে নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে গাছপালা, অন্যদিকে উর্বরতা হারিয়ে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে জমি। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, আকারভেদে একটি ইটভাটা গড়তে কমপক্ষে পাঁচ একর (৫০০ শতাংশ) জমি প্রয়োজন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ৪০-৪৫ একর জমিরও প্রয়োজন হয়। ১০ বছর আগে জেলায় হাতেগোনা ১৫-২০টি ভাটা ছিল। কিন্তু এখন তা বেড়ে ৭০টিতে পৌঁছেছে। আর এসব ইটভাটা গড়ে ওঠার কারণে চার শতাধিক একর ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। নড়াইল লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের শিয়রবর গ্রামের
সুরমা ইটভাটার ম্যানেজার জানান, সাধারণত মধ্যম সারির একটি ভাটায় বছরে ৪০-৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। আর প্রতি আট হাজার ইটের জন্য কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার হয় এক হাজার ঘনফুট মাটি। যে মাটির জোগান দেয়া হয় কৃষিজমি থেকে। এজন্য প্রতিটি ভাটায় বছরে পাঁচ থেকে ছয় একর জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা হয়। সে হিসাবে ৭০টি ভাটাতে প্রতি বছর অন্তত সাড়ে ৩০০ একর জমির মাটি ব্যবহৃত হয়। ইট পোড়ানোর জন্য প্রতিটি ভাটায় দৈনিক গড়ে ৩৫-৪০ মণ কাঠ পোড়াতে হয়। সে হিসাবে জেলার ৭০টি ইটভাটায় প্রতিদিন ২ হাজার ৪৫০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগৃহীত কাঠ এসব ভাটায় ব্যবহার করা হয়। গড়ে প্রতিটি গাছ থেকে সাত থেকে আট মণ কাঠ পাওয়া যায়। হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন ইটভাটায় আম, জাম, রেন্ট্রি, কদম, জামরুল, কাঁঠাল, খেজুর, নারকেলসহ তিন শতাধিক ফলদ ও বনজ গাছের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭-এর ৭ ধারা অনুযায়ী কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রথমবার সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে ১ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও সাজার বিধান রাখা হয়েছে। তৃতীয়বার করলে নিবন্ধন বাতিল ও ভাটা বাজেয়াপ্ত করারও বিধান রাখা হয়েছে। কাগজে কলমে এসব আইনের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নেই। পরিবেশবাদী সংগঠনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি ভাটায় কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। কৃষিজমি এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ভাটায় স্বল্প উচ্চতার টিনের তৈরি চিমনি দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এতে ফসলসহ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের খড়লিয়া গ্রামের আব্দুল মোল্যা
জানান, ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও ভাটার একশ গজ দুরে রয়েছে ১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ টি বালিকা বিদ্যালয়, ১ টি মাদ্রাসা।তাছাড়া ও এলাকাটি স ঘন বসতিপূর্ণ। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারনে এই ভাটার কিছু হয়না। এদিকে আউড়িয়া ইউনিয়নের এক প্রান্তিক চাষি জানান,ক্ষেতের পাশে ইটভাটা গড়ে ওঠায় আগের তুলনায় উৎপাদন কমে গেছে। সরকার যদি ফসলি জমির ওপর ইটভাটা স্থাপন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পাঁচ বছরের মধ্যে এসব জমির উৎপাদন শূন্যে নেমে আসবে। ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে নড়াইলের আউড়িয়া ও বিছালী ইউনিয়নের ডন ইট ভাটার মালিক কুশল বলেন, চাহিদার তুলনায় কয়লার সরবরাহ কম, সেসঙ্গে দামও বেশি। গত বছর যে কয়লা ৮ হাজার টাকা টন ছিল সেই কয়লা এ বছর ১৯হাজার ৫ শ টাকা টন হয়েছে। সেই হেতু এ বার কয়লা দিয়ে ভাটাা চালালে আমাদের ব্যাবসা থাকবে না। কাজেই সরকার যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ কয়লা আমদানির ব্যবস্থা ও দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পারে, তবে এসব ভাটায় কাঠ পোড়ানো বন্ধ করা যাবে। নড়াইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)
জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় যদি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়, তাহলে এর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ব্রংকাইটিস, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রকোপ বাড়ে। নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিপক কুমার রায় বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা হলে এর উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। চার-পাঁচ বছর সেই জমি থেকে ফসল উৎপাদন অনেক কমে যায়। তিনি আরো বলেন, ফসলি জমির মাটি কেটে ভাটায় ব্যবহার বন্ধে ও ফসলি জমির পাশে যেন ইটভাটা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আমরা জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানাব।জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, নড়াইলে কিছু ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে, আইন আমান্য করে গড়ে ওঠা ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর ....

  1. © All rights reserved © 2021 crimenews24.net
Design & Developed BY Lalon Shah Web Host