1. admin@crimenews24.net : crimene :
  2. zpsakib@gmail.com : sakib@2021 :
  3. crimeinvestigation.cit@gmail.com : MD ZAHID HASAN : MD ZAHID HASAN
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি পাগল হয়ে গেছে : মোমিন মেহেদী র‌্যাব-৬ এর অভিযানে বাগেরহাট সদর থানা এলাকা থেকে ১৮টি হরিণের চামড়াসহ ২ জন আটক খুলনা থেকে পর্ণো ভিডিও সংরক্ষন ও সরবরাহের অপরাধে ০২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬ চাঁপাইনবাবগঞ্জে গুলি ভর্তি বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেপ্তার-১ চোরাচালানের সময় ভারতীয় প্রসাধনী সহ ০১ জন চোরাকারবারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ খালি গায়ে নারীদের  করোনার টিকা দেওয়া ও কেন্দ্রে বসে প্রকাশ্যে ধুমপান করা  ইপিআই কে কারণ দর্শানোর নোটিশ ঝিনাইদহে পৃথক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪ র‍্যাব-৬’র অভিযানে হরিণাকুন্ডুতে অস্ত্রসহ হাবিব বাহিনীর হাবিব গ্রেফতার ঘুষের টাকা বাকী থাকায় দুই বছরেও সরকারী ঘর পাননি হতদরিদ্র( রাকু)- লিখিত অভিযোগ দায়ের খুলনায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা

অসুস্থ সাংবাদিকতা ও আমরা

"খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান" 
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১
  • ১৩৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সাংবাদিকতা একটা মহান পেশা, শখ পূরণের জায়গা এটা নয়। যে বা যারা শখের বসে কিংবা ধান্দাবাজির উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতা করতে আসেন, তাদের কারণেই এই মহান পেশাকে এখন অনেকেই ঘৃণা করতে শুরু করেছে। মফস্বলে অপসাংবাদিকতা রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হয়তো এমন এক সময় আসবে যখন এ পেশার মান মর্যাদা রক্ষা করাটায় কঠিন হয়ে পড়বে। আর এজন্য পেশাদার সংবাদকর্মীদের এখনই এগিয়ে আসতে হবে নিজ উদ্যাগে।
আগে একজন সাংবাদিককে সকল পেশার মানুষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। এ পেশার লোকজনকে এখনো অনেকেই জাতির বিবেক বলে থাকেন। একজন প্রকৃত সাংবাদিকের কোন দেশ কাল পাত্র নেই। তারা জগৎ সভার এক একজন পরীক্ষক ও নিরীক্ষক।
মিডিয়ায় আজকাল প্রায়শই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায় ‘কিশোর গ্যাং’ গড়ে উঠেছে। বলতে কষ্টে হলেও দেখা যায় সাংবাদিকতা পেশায়ও আজকাল এক শ্রেণির গ্যাং তৈরি হয়েছে, আর তা হলো মুর্খ ও অশিক্ষিত একদল মানুষ এখন সাংবাদিকতা পেশায় নিযুক্ত। এরাও ‘কিশোর গ্যাংয়ে’র মত, দল বেঁধে প্রতিদিন ধান্দাবাজিতে মেতে ওঠেন।
হকার থেকে শুরু করে দিনমজুর, গরুর দালাল, থানার দালাল, জমির দালালসহ মূর্খ আর অশিক্ষিত এক শ্রেণির মানুষ আজকাল সাংবাদিক পরিচয় দেন। গাড়ির সামনে প্রেস লেখা স্টিকার লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়ান পুরো জেলা-উপজেলায়। অখ্যাত সব পত্রিকা-টিভির আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে বীরদর্পে ধান্দাবাজিতে মেতে উঠেছে তারা। এর পেছনে সিনিয়র ও শিক্ষিত সাংবাদিকদেরও দায় রয়েছে।
এসব অপ সাংবাদিকতা রোধে আমার মনে হয় এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ প্রতিটি জেলা-উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিকদের। প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ইউনিটি, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামসহ সাংবাদিকদের সকল সংগঠন থেকে সিনিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে ‘সাংবাদিক বাছাই কমিটি’ করে এই অপসাংবাদিকতা রোধ করাটা এখন সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন স্বার্থে এখন সংবাদপত্রকে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, দায়িত্বশীল, সৎ সাংবাদিকদের বিতর্কিত করা হচ্ছে; মহান পেশার আদর্শ উদ্দেশ্য উল্টে দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতা বাণিজ্যের ভিড়ে সংবাদপত্র এবং প্রকৃত সাংবাদিকরা অপসৃয়মাণ। মর্যাদা সম্পন্ন পেশা, মর্যাদা হারাচ্ছে। শূদ্ধতার মাঝে ঢুকে পড়েছে নাম সর্বস্ব অপ-সাংবাদিকতা। দুর্নীতি আর ভন্ডামির অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে এখন এই পেশা। পেশা নয় অসুস্থ ব্যবসা। অশিক্ষিত, কুশিক্ষিতরা অর্থের বিনিময়ে আন্ডরগ্রাউন্ড পত্রিকার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে মানুষকে ভয়ভীতি; আর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতরণায় মেতেছে তারা। যা সাংবাদিকতা আর সংবাদপত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ।
মিডিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিভাবান তরুণরা এই সেক্টরে আসছেন না বলেই হয়তো অযোগ্য কিছু মানুষকে দিয়ে কাজ চালানোর প্রথা শুরু হয়েছে এ পেশায়। এদের কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেনি অধিকাংশ চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রশিক্ষণবিহীন, সাংবাদিকতা সম্পর্কে নূ্ন্যতম জ্ঞানবিহীন অদক্ষরা সদ্য শিং গজানো বাছুরের মতো বুকে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে উন্মত্তের মতো আচরণ করে চলেছে এখন নিরন্তর। এরা রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভাঙ্গে, সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে ধমক দিয়ে কাজ করতে চায়। এর বাইরে আছে স্বঘোষিত ধান্দাবাজদের ‘সাংবাদিক’ হয়ে ওঠা। পাড়া মহল্লার সাময়িকী অথবা এক পাতার কিছু একটা ছাপিয়েই কিছু লোক স্বঘোষিত সাংবাদিক হয়ে পড়ছে। যেনতেন প্রকারে আন্ডারগ্রাউন্ড একটি পত্রিকা বের করে চলছে ব্ল্যাকমেইলিং আর চাঁদাবাজির মহোৎসব। এসব ‘সাংবাদিক’দের দায় নিতে হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদের।
অতন্ত দুঃখের বিষয় যে, এদেশে সাংবাদিক হতে কোন সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। হুট করেই সাংবাদিক হয়ে যেতে পারে এখন যে কেউ। না, এক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাও কোন বিষয় নয়। সু-শিক্ষিত ও মানসম্পন্ন সাংবাদিক ও কলামিস্ট এদেশে অনেকেই আছেন, যারা তাদের ক্ষুরধার ও বুদ্ধিদীপ্ত লেখনী দ্বারা সমাজের অনেক অসঙ্গতি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলে আমাদেরকে সমাজ- সচেতন করে তোলেন প্রায়শই। সেই গুটিকয় নমস্য সাংবাদিকের সাথে মিশে গেছে সাংবাদিক নামধারী কিছু নর্দমার কীট। আসলে এরাই বর্তমানে সংখ্যায় বেশি। অপ-সাংবাদিক সৃষ্টি এক ধরনের সাংবাদিকতা নির্যাতন। সাংবাদিকতা পেশা যেন আগের সৎ ও নির্ভীক চেহারায় ফিরে আসে।
লেখাপড়ায় মাধ্যমিকের গন্ডি পার হতে পারেনি, এলাকায় টাউট হিসাবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা ঢাকাসহ জেলা শহর থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন অখ্যাত-কুখ্যাত পত্রিকার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে সাংবাদিক বনে যায় এবং প্রশাসনে ও রাজনৈতিক মহলে উদ্দেশ্যেমূলক খবরদারি করে। আর প্রশাসনে খবরদারিকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে ওই টাউট সংবাদকর্মীরা সহজ সরল মানুষকে ব্ল্যাককমেইলিং করছে। পত্রিকা বিক্রেতা থেকে স্বঘোষিত সাংবাদিক হওয়া কতিপয় টাউট সংবাদকর্মী মোটরসাইকেলে অথবা প্রাইভেট কারে সাংবাদিক বা প্রেস লিখে অবাধে চরাফেরা করছে। সরকারি বেসরকারি দফতরের আসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব টাউট সংবাদকর্মীদের সমীহ করছে, আবার তাদের অপকর্মে সহযোগিতা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু এখানেই থেমে নেই, বিভিন্ন সম্যসাগ্রস্থ মানুষদের সরলতার সুযোগ নিয়ে কিছু সংবাদকর্মীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত মানুষদের আরো বিপদে ফেলছে। সময় এসেছে এদেরকে চিহ্নিত করবার। এরা আসলে সমাজ ব্যবস্থার শত্রু। আসুন, আমরা এদের একে একে চিহ্নিত করে এদের মুখোশ উন্মোচন করি আর স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে এদের প্রতিহত করি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

  1. © All rights reserved © 2021 crimenews24.net
Design & Developed BY Lalon Shah Web Host